নেত্রকোনায় নাজু আক্তার (৩৪) নামে সাবেক স্ত্রীকে নির্মমভাবে শ্বাসরোধে হত্যা করে মাটির নিচে পুঁতে রাখার ঘটনা ঘটেছে। হত্যার পর দীর্ঘ ৭ দিন স্বাভাবিক জীবনযাপন করছিলেন অভিযুক্ত সাবেক স্বামী নুরুল আমিন।
তবে শেষ রক্ষা হয়নি। নিহতের ভাইয়ের করা একটি সাধারণ ডায়েরির (জিডি) সূত্র ধরে তদন্তে নেমে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যারাতে অভিযুক্ত স্বামীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাটির নিচে পুঁতে রাখা নাজু আক্তারের গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে নেত্রকোনা সদর উপজেলার মৌগাতি ইউনিয়নের নগুয়া গ্রামে। নিহত নাজু আক্তার নেত্রকোনা পৌর শহরের কাটলী এলাকার মৃত ইসলাম উদ্দিনের মেয়ে।
নিহতের পারিবারিক সূত্র ও পুলিশ জানায়, প্রায় এক বছর আগে নুরুল আমিন ও নাজু আক্তারের বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন (ডিভোর্স) হয়। বিচ্ছেদের পর আদালতে তাদের একটি ধর্ষণ মামলা চলছিল। এ ছাড়া আদালতের রায়ে সাবেক স্ত্রীকে নিয়মিত খরপোশের টাকা দিয়ে আসছিলেন নুরুল আমিন।
তবে গত তিন মাস ধরে সেই খরপোশের টাকা দেওয়া বন্ধ রাখেন তিনি। গত ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যারাতে বকেয়া টাকার জন্য নুরুল আমিনকে ফোন করেন নাজু আক্তার। টাকা দেওয়ার কথা বলে কৌশলে নাজুকে নেত্রকোনা শহর থেকে নগুয়া গ্রামে নিজের কাছে ডেকে নেন নুরুল আমিন।
গ্রামের মগরা নদীর তীরে পৌঁছানোর পর দুজনের কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে নাজুর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন নুরুল আমিন। হত্যাকাণ্ড গোপন করতে মরদেহ নদীর তীরেই মাটিতে পুঁতে রাখেন তিনি। শুধু তাই নয়, নাজু আক্তারের মোবাইল ফোন, ভ্যানিটি ব্যাগসহ আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র গ্রামের শ্মশানের পাশে মাটিতে পুঁতে রেখে নিজের বাড়িতে ফিরে গিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে থাকেন।
আরও পড়ুন: ন্যাম ভবনে সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুলের স্ত্রীর লাশ উদ্ধার
১৮ সেপ্টেম্বর বোন নিখোঁজ হওয়ার পর নাজুর ভাই শুভ মিয়া ২২ সেপ্টেম্বর নেত্রকোনা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে শুক্রবার দুপুরে সাবেক স্বামী নুরুল আমিনকে হেফাজতে নিয়ে কড়া জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। একপর্যায়ে পুলিশের টানা প্রশ্নের মুখে ভেঙে পড়ে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন নুরুল আমিন।
স্বীকারোক্তি পাওয়ার পর শুক্রবার সন্ধ্যারাতে নুরুল আমিনকে সঙ্গে নিয়ে অভিযানে নামে পুলিশ। তার দেখানো স্থান থেকেই নাজু আক্তারের মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে শ্মশানের পাশ থেকে নিহতের মোবাইল ও ভ্যানিটি ব্যাগসহ হত্যার ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত জব্দ করে পুলিশ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান, "মরদেহটি উত্তোলনের পর ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত নুরুল আমিনকে আটক করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।"
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...