প্রকাশ্যে স্বতন্ত্র মুখোশ আর ভেতরে ভেতরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক কব্জায় নিতে রাজনীতির সমীকরণ নিয়ে নির্বাচনি মাঠে নেমেছেন আমেরিকার মিসৌরী আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ড. রফিকুল ইসলাম খান (ড. রফিক খান)।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মানিকগঞ্জ-৩ (মানিকগঞ্জ–সাটুরিয়া) আসনে বইছে নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের হাওয়া। দীর্ঘদিনের আওয়ামী তকমা ঝেড়ে ফেলে এবার ‘স্বতন্ত্র’ পরিচয়ে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন আমেরিকার মিসৌরী আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত ড. রফিকুল ইসলাম খান (ড. রফিক খান)।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ড. রফিক খান ২০১৮ সালের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে মরিয়া ছিলেন। কিন্তু তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের প্রভাব ও হেনস্তার মুখে তিনি মাঠ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের তকমা আড়াল করে নিজেকে ‘জনদরদী’ ও ‘দুর্নীতিমুক্ত’ সেবক হিসেবে উপস্থাপন করছেন তিনি। গত সোমবার তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তার মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
নির্বাচনী মাঠে ড. রফিক খান নিজেকে ‘গরিবের বন্ধু’ হিসেবে প্রচার করলেও নেপথ্যে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ভোটব্যাংক কবজায় নিতে নীরব দেন-দরবার চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংখ্যালঘু ভোট: নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, তিনি ইতোমধ্যে হিন্দু কমিউনিটির নীতি-নির্ধারক ও পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন।
প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগাযোগ: মানিকগঞ্জের আইনজীবী এবং নির্বাচনে নেপথ্যে প্রভাব বিস্তারকারী ব্যক্তিদের সঙ্গেও তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।
ড. রফিক খানের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এখনও সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির মতো প্রভাবশালী আওয়ামী নেতাদের সঙ্গে তাঁর ছবি বিদ্যমান। যদিও তিনি নির্বাচনী পোস্টারে দাবি করছেন— "দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ি" এবং "অন্যায় ও অপশক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামই রাজনীতি"।
আমেরিকা প্রবাসী আওয়ামী লীগের সাবেক এই সভাপতি তাঁর অতীত রাজনৈতিক পরিচয় স্বীকার করে গণমাধ্যমকে জানান, ২০১৮ সালে দলের মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর এবার তিনি স্বতন্ত্র হিসেবে লড়ছেন। নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি দাবি করে তিনি বলেন, "আওয়ামী ঘরানার ভোট আমি আশা করতেই পারি।" সম্পদের মোহ নেই দাবি করে তিনি তাঁর সমস্ত সম্পদ 'রাবেয়া ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট'-এ দান করেছেন বলেও জানান।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের বড় একটি ভোটব্যাংক যদি ড. রফিকের বাক্সে যায়, তবে মানিকগঞ্জ-৩ আসনের নির্বাচনী সমীকরণ ও ফলাফল নাটকীয়ভাবে বদলে যেতে পারে।
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...