এবারের ঈদযাত্রার ৮ দিনে ২০৪ প্রাণহানি এক ভয়াবহ জাতীয় ট্র্যাজেডি। সড়ক দুর্ঘটনায় ধারাবাহিক মৃত্যুর দায় রাষ্ট্রকে নিতে হবে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে বিশেষ সম্পাদকীয়।
এবারের ঈদযাত্রায় দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলো যেন এক একটি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। গত কয়েক দিনে বাস-ট্রাক সংঘর্ষ, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়া কিংবা রেলক্রসিংয়ে বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষের মতো যেসব মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, তা কেবল দুর্ঘটনা নয়—বরং এক একটি জাতীয় ট্র্যাজেডি। বিশেষ করে দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে বাসডুবি এবং কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষে ১২ জনের প্রাণহানি জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
বেসরকারি সংস্থা ‘রোড সেফটি ফাউন্ডেশন’-এর প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এবারের ঈদকেন্দ্রিক মাত্র ৮ দিনে ২৬৮টি দুর্ঘটনায় ২০৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ছয় শতাধিক মানুষ। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চের মধ্যে প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ৩২ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। গত বছরের ঈদুল ফিতরের তুলনায় এবার হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার নেপথ্যে যে কারণগুলো দায়ী
বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকদের মতে, সড়কে এই রক্তক্ষয়ী উৎসবের পেছনে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে:
বেপরোয়া গতি ও চালকের অদক্ষতা: মহাসড়কে ওভারটেকিং এবং গতির প্রতিযোগিতায় চালকদের অপেশাদার আচরণ।
ফিটনেসবিহীন যান: লক্কড়-ঝক্কড় গাড়ি ও নিষিদ্ধ থ্রি-হুইলারের অবাধ চলাচল।
আইনের প্রয়োগহীনতা: ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ থাকার পরও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায় তার সঠিক প্রয়োগ নেই।
রেল ও নৌপথের ওপর চাপ: গণপরিবহনের বিকল্প ব্যবস্থা পর্যাপ্ত না হওয়ায় সড়কপথের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা।
দায় কার?
সরকারের পক্ষ থেকে নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রার দাবি করা হলেও বাস্তবের রক্তমাখা পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। একটি দেশের সড়কে প্রতিদিন এতো প্রাণহানিকে কেবল ‘দুর্ঘটনা’ বলে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা বিআরটিএ থেকে শুরু করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা—প্রত্যেকের গাফিলতি এখানে স্পষ্ট। সড়কের এই ধারাবাহিক মৃত্যুর দায় রাষ্ট্রকেই নিতে হবে এবং এর কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত করতে হবে।
উত্তরণের পথ: আমাদের করণীয়
নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে হলে কেবল কথার ফুলঝুরি নয়, চাই সুচিন্তিত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও কঠোর ব্যবস্থাপনা:
১. দক্ষ চালক তৈরি: চালকদের সঠিক প্রশিক্ষণ, বেতন ও কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করতে হবে।
২. বিআরটিএর সক্ষমতা: লাইসেন্স প্রদান ও ফিটনেস পরীক্ষায় স্বচ্ছতা আনতে হবে।
৩. অবকাঠামো উন্নয়ন: সব মহাসড়কে রোড ডিভাইডার নির্মাণ এবং স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল বন্ধ করা।
৪. চাঁদাবাজি নির্মূল: পরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করে মালিক-শ্রমিকদের শৃঙ্খলায় আনা।
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...