ঢাকার ব্যাটারিচালিত রিকশা চালকদের ২৫% আওয়ামী লীগ কর্মী এবং ৩৪% মাদকাসক্ত। অনুসন্ধানে উঠে এলো অপ্রাতিষ্ঠানিক পরিবহন খাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য।
রাজধানীর বিভিন্ন গলিপথে রাজত্ব করা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা (যা স্থানীয়ভাবে 'টেসলা' নামেও পরিচিত) কেবল যাত্রী পরিবহনের মাধ্যম নয়; বরং এটি এখন আত্মগোপন ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক সংঘাতের আঁতুড়ঘরে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা চালানো চালকদের অন্তত ২৫ শতাংশই কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মী। এছাড়া এদের একটি বড় অংশ মারাত্মক মাদকাসক্ত।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, পল্টন, নতুন বাজার, কল্যাণপুর ও উত্তরা এলাকার ১৭টি রিকশা গ্যারেজের ৬৭২ জন চালকের ওপর পরিচালিত অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এদের একটি বড় অংশ ঢাকায় এসেছেন।
মামলার আসামি কিংবা স্থানীয় প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে তারা আত্মরক্ষার্থে ঢাকায় এসে অটোরিকশা চালানোকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। স্থানীয় সাহেবি জীবন বা ব্যবসা ছেড়ে তারা এখন রিকশার হ্যান্ডেল ধরেছেন। অনুসন্ধান বলছে, দলীয় হাই রাজনৈতিক কোনো বড় আন্দোলনের ডাক দিলে তারা পুনরায় রাজপথে নামার মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রাখছেন।
আরও পড়ুন: জোড়া মেট্রোরেল প্রকল্পে বড় ধাক্কা, ব্যয়ের নতুন প্রস্তাব ২ লাখ কোটি টাকার বেশি
১৭টি গ্যারেজের ৬৭২ জন চালকের ওপর চালানো জরিপ ও তথ্য বিশ্লেষণে যে চিত্র উঠে এসেছে তা নিম্নরূপ:
রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা: ২৫% চালক (১৬৯ জন) আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে চিহ্নিত।
মাদকাসক্তি: ৩৪% চালক (২২৮ জন) নিয়মিত ইয়াবা ও গাঁজা সেবন করেন। অনেকে রাতে গাঁজা সেবন করে ঘুমান, আবার কেউ ইয়াবা সেবন করে সারারাত গাড়ি চালান।
সমন্বিত হিসাব: মোট চালকের ৫৯ শতাংশই রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত অথবা মাদকাসক্ত। বাকি ৪১ শতাংশ সাধারণ বা রাজনৈতিকভাবে অসংগঠিত।
গ্যারেজ মালিকদের মতে, টাকার বিনিময়ে এই মাদকাসক্ত ও ভবঘুরে চালকদের যেকোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সহজ, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য বড় হুমকি।
ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর আটটি অপরাধ বিভাগে প্রায় ৪৮,১৩৬টি অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট এবং ৯৯২টি গ্যারেজ গড়ে উঠেছে।
মিরপুর বিভাগ: ৩,৯৮৩টি চার্জিং পয়েন্ট ও ২৫৯টি গ্যারেজ।
ওয়ারী বিভাগ: ৩,৫১৬টি চার্জিং পয়েন্ট ও ১৩৬টি গ্যারেজ।
গুলশান বিভাগ: ২,৬৪৩টি চার্জিং পয়েন্ট ও ১২৮টি গ্যারেজ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালিয়ে শ’য়ে শ’য়ে চার্জিং পয়েন্ট ও তার কাটলেও স্থায়ীভাবে এই অবৈধ নেটওয়ার্ক বন্ধ করা যাচ্ছে না।
সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক জানান, রাজনৈতিক ইতিহাসে দেখা গেছে নিষিদ্ধ বা কোণঠাসা দলগুলো অনেক সময় দরিদ্র ও মাদকাসক্ত জনগোষ্ঠীকে অর্থের বিনিময়ে বা প্ররোচিত করে সহিংসতার কাজে ব্যবহার করে। তাই এই অটোরিকশা খাতকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন জানান, গ্যারেজসহ সম্ভাব্য অপরাধীদের আশ্রয়স্থলগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে এবং হুমকি মনে হলেই অভিযান চালানো হচ্ছে।
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...