মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের বিস্তারিত বৈশিষ্ট্য। এর আধুনিক যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং পারমাণবিক শক্তির সক্ষমতা নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা আর ইরানের সাথে চরম উত্তেজনার মধ্যে আলোচনায় এখন মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’। নিমিৎজ শ্রেণির এই ভাসমান দুর্গটি কেবল একটি জাহাজ নয়, বরং এটি একটি আধুনিক সমরাস্ত্রের ভাণ্ডার—যা নিমেষেই যেকোনো লক্ষ্যবস্তুকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে।
১. বিশাল আকার ও সৈন্য সংখ্যা:
আব্রাহাম লিংকন দৈর্ঘ্যে ১,০৯২ ফুট এবং ওজনে ১ লাখ টনেরও বেশি। এটি প্রায় ৫,০০০ থেকে ৫,৭০০ সেনা ও ক্রু সদস্য নিয়ে মাসের পর মাস সমুদ্রের বুকে অবস্থান করতে পারে। এটি মূলত একটি ছোটখাটো ভাসমান শহরের মতো, যেখানে নিজস্ব হাসপাতাল, জিমনেসিয়াম এবং দৈনিক ১৮ হাজার মানুষের খাবার তৈরির সক্ষমতা রয়েছে।
২. আধুনিক যুদ্ধবিমানের বহর:
এই রণতরিতে ৯০টি পর্যন্ত ফিক্সড-উইং বিমান এবং হেলিকপ্টার থাকতে পারে। বহরে থাকা উল্লেখযোগ্য যুদ্ধবিমানগুলো হলো:
F-35C Lightning II: বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত স্টিলথ ফাইটার জেট, যা রাডারের চোখ ফাঁকি দিয়ে হামলা চালাতে সক্ষম।
F/A-18E/F Super Hornet: এটি আকাশ নিয়ন্ত্রণ ও স্থল হামলার জন্য অত্যন্ত কার্যকর।
EA-18G Growler: ইলেকট্রনিক যুদ্ধের জন্য বিশেষায়িত এই বিমান শত্রুর রাডার ও যোগাযোগ ব্যবস্থা জ্যাম করে দিতে পারে।
E-2D Hawkeye: দূরপাল্লার নজরদারি এবং আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেমের কাজ করে।
৩. ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা:
রণতরিটি কেবল বিমান বহন করে না, এর রয়েছে নিজস্ব দুর্ভেদ্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা:
সি-স্প্যারো ও রিম-১১৬ মিসাইল: আগত শত্রু বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে ব্যবহৃত হয়।
ফ্যালানক্স সিআইডব্লিউএস (CIWS): এটি খুব কাছাকাছি চলে আসা হুমকি শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গুলি ছুঁড়তে সক্ষম।
গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার: এই রণতরির সাথে পাহারা হিসেবে থাকে ‘ইউএসএস স্প্রুয়েন্স’ ও ‘ইউএসএস ফ্রাঙ্ক ই. পিটারসন জুনিয়র’-এর মতো একাধিক ডেস্ট্রয়ার জাহাজ, যেগুলো টমাহক ক্রুজ মিসাইল সজ্জিত।
৪. পারমাণবিক শক্তি: এতে দুটি শক্তিশালী পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর রয়েছে। ফলে এটি জ্বালানি ছাড়াই টানা ২০ থেকে ২৫ বছর চলতে পারে এবং এর গতিবেগ ঘণ্টায় ৩০ নটিক্যাল মাইলেরও বেশি।
৫. কৌশলগত গুরুত্ব: বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এই মোতায়েন মূলত ইরানকে কূটনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার একটি বড় কৌশল। এটি আলোচনার টেবিলে যুক্তরাষ্ট্রকে যেমন শক্ত অবস্থানে রাখে, তেমনি প্রয়োজন পড়লে দ্রুত ‘সারপ্রাইজ অ্যাটাক’ করার ক্ষমতাও দেয়।
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...