তেহরানকে নতুন চুক্তির জন্য ১০-১৫ দিনের সময় বেঁধে দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যথায় সামরিক হামলার হুঁশিয়ারি। পাল্টা জবাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি ও রাষ্ট্রদূত ইরাভানি ওয়াশিংটনকে চরম সতর্কবার্তা দিয়েছেন
বিশ্বরাজনীতিতে আবারও ঘনীভূত হচ্ছে যুদ্ধের কালো মেঘ। ইরানের সাথে ‘অর্থবহ চুক্তি’ সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ ১৫ দিন সময় বেঁধে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যথায় বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। এর পাল্টা জবাবে ইরানও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যেকোনো আগ্রাসনের জবাব হবে অত্যন্ত ‘দৃঢ় ও ধ্বংসাত্মক’।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ওয়াশিংটনে নবগঠিত ‘শান্তি পরিষদের’ বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, “তেহরানের কাছে একটি অর্থবহ চুক্তি করার জন্য আর মাত্র ১০ থেকে ১৫ দিন সময় আছে। হয়তো আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাব, নয়তো আমাদের আরও এক ধাপ এগিয়ে যেতে হবে (সামরিক পদক্ষেপ)।” পরে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালেও তিনি এই সময়সীমার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। ট্রাম্পের দাবি, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করা না গেলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানো সম্ভব নয়।
ট্রাম্পের এই হুমকির তীব্র নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি নিরাপত্তা পরিষদে চিঠি পাঠিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ভারতের মহাসাগরের চাগোস দ্বীপপুঞ্জের বিমানঘাঁটি ব্যবহার করে হামলার চেষ্টা হলে অঞ্চলজুড়ে মার্কিন সকল ঘাঁটি ও স্থাপনাকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) মার্কিন রণতরী মোতায়েনের জবাবে লিখেছেন, “আমেরিকানরা যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেই যুদ্ধজাহাজকে সাগরের তলদেশে পাঠাতে পারে—এমন অস্ত্র তার চেয়েও বেশি বিপজ্জনক।”
মজার বিষয় হলো, এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই জেনেভায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে ‘পরোক্ষ আলোচনা’ ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছিল বলে দাবি করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। এমনকি ট্রাম্পের সহকারী জ্যারেড কুশনারও ইরানি প্রতিনিধিদের সাথে ভালো বৈঠক করেছেন বলে জানা গেছে। তবে আলোচনার টেবিলে সমঝোতা চললেও পারস্য উপসাগরে দুটি বিমানবাহী রণতরী ও ডজনখানেক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে সামরিক চাপ বজায় রাখছে ওয়াশিংটন।
২০২৫ সালের শেষ দিক থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়। বিশেষ করে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভে ট্রাম্পের সমর্থন এবং পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার হুমকির পর থেকে দুই দেশ এখন যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। আগামী দুই সপ্তাহ নির্ধারণ করবে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ—চুক্তি নাকি সংঘাত।
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...