1ef41a04-0e40-44ac-8c99-5303a719e024.webp
নিউজ টাইম
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ০৯:০৩

ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধের কার্যকরী উপায় ও ঘরোয়া সতর্কতা
ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধের কার্যকরী উপায় ও ঘরোয়া সতর্কতা

বর্ষায় ডেঙ্গু জ্বর থেকে বাঁচতে চান? জেনে নিন ডেঙ্গুর লক্ষণ, ধরন এবং প্রজনন ধ্বংসসহ প্রতিরোধের সহজ ও কার্যকরী উপায়গুলো।

বর্ষাকাল শুরু হলেই বাড়ে মশাবাহিত রোগের প্রকোপ, যার মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক হলো ডেঙ্গু জ্বর। এডিস মশার (Aedes aegypti) কামড়ে ছড়িয়ে পড়া এই রোগটি সময়মতো শনাক্ত করা না গেলে শরীরে রক্তের প্লেটলেটের মাত্রা দ্রুত কমে যায় এবং অঙ্গ বিকল হওয়ার মতো জীবনঘাতী ঝুঁকি তৈরি হয়।


স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসা নেওয়ার চেয়ে আগে থেকেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন হওয়া সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।


ডেঙ্গু কী এবং এর ধরনসমূহ

সংক্রামিত এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে মানবদেহে ডেঙ্গু ভাইরাস প্রবেশ করে। জমা পানিতে এই মশা বংশবৃদ্ধি করায় বর্ষায় এর প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায়। ডেঙ্গু প্রধানত তিনটি প্রকারে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়ে থাকে:


  1. ডেঙ্গু ফিভার (Dengue Fever): এটি সাধারণ ডেঙ্গু জ্বর, যা চিকিৎসায় দ্রুত সেরে ওঠে।
  2. ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার (Dengue Haemorrhagic Fever - DHF): এতে রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্তপাত হতে পারে।
  3. ডেঙ্গু শক সিনড্রোম (Dengue Shock Syndrome - DSS): এটি ডেঙ্গুর সবচেয়ে বিপজ্জনক ধাপ, যেখানে রক্তচাপ মারাত্মকভাবে কমে যায়।


আরও পড়ুন: চিকিৎসা খাতে নতুন দিগন্ত: বাংলাদেশে প্রথমবার রোবোটিক সার্জারি শুরু করল ইউনাইটেড হেলথকেয়ার


ডেঙ্গু আক্রমণের মূল কারণ ও লক্ষণ

এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায়—বিশেষ করে সকাল ও বিকেলের দিকে বেশি কামড়ায়। বাসাবাড়ির জমে থাকা পানি, ফুলের টব বা ড্রেন এদের প্রধান প্রজনন ক্ষেত্র। সংক্রামিত মশা কামড়ানোর ৪ থেকে ১০ দিনের মধ্যে শরীরে নিচের লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে শুরু করে:


প্রধান লক্ষণসমূহ
সংক্ষিপ্ত বিবরণ
চোখের পেছনে তীব্র ব্যথা
চোখের ভেতরের দিকে বা পেছনের পেশিতে চাপ অনুভূত হওয়া।
পেশি ও অস্থিসন্ধির ব্যথা
যাকে তীব্র ব্যথার কারণে "ব্রেকবোন ফিভার" (Breakbone Fever) বলা হয়।
ত্বকে র‍্যাশ বা লালচে দাগ
জ্বর শুরুর ২ থেকে ৫ দিনের মধ্যে ত্বকে লালচে দানা দেখা দেয়।
বমি ভাব ও দুর্বলতা
খাবারে অরুচি, ক্রমাগত বমি ভাব এবং শরীর চরম ক্লান্ত লাগা।


ডেঙ্গু প্রতিরোধের ৭টি সেরা উপায়

জমা পানি দূর করা এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করাই হলো ডেঙ্গু থেকে বাঁচার মূল উপায়।


  1. ১. মশার প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস করা: ঘরের আনাচে-কানাচে, পাত্রে, ড্রেনে বা ফুলের টবে জমা পানি তিন দিনের বেশি রাখতে দেবেন না।
  2. ২. সুরক্ষামূলক পোশাক পরিধান: সকালে ও সন্ধ্যায় বাইরে বের হলে ফুলহাতা জামা এবং লম্বা প্যান্ট পরিধান করুন।
  3. ৩. মশা তাড়ানোর ওষুধ ও স্প্রে: লেমন ইউক্যালিপটাস অয়েল বা ভালো মানের মসকিউটো রেপেলেন্ট ব্যবহার করুন।
  4. ৪. মশারি ও নেট ব্যবহার: ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানান এবং জানালায় মশানিরোধী নেট ব্যবহার করুন।
  5. ৫. রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: ভিটামিন C-সমৃদ্ধ খাবার (লেবু, আমলকী, কমলা) খান এবং প্রচুর পানি পান করে শরীর হাইড্রেটেড রাখুন।
  6. ৬. মশার কামড়ের পর করণীয়: কামড়ের স্থান সাবান-পানি দিয়ে পরিষ্কার করুন, স্থানটি চুলকাবেন না এবং প্রচুর তরল খাবার গ্রহণ করুন।
  7. ৭. জরুরি স্বাস্থ্য পরীক্ষা: জ্বর ও শরীর ব্যথার লক্ষণ দেখামাত্রই ডাক্তারের পরামর্শে দ্রুত ডেঙ্গু পরীক্ষা (NS1 / CBC) করিয়ে নিন।


পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সামান্য সচেতনতাই পারে আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে এই ডেঙ্গু মরসুমে সুরক্ষিত রাখতে।


প্রশ্ন ১: মশার কামড়ের পর তাৎক্ষণিক করণীয় কী?

উত্তর: কামড়ের স্থান পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন, চুলকাবেন না, শরীর হাইড্রেটেড রাখুন এবং কোনো লক্ষণ দেখা দিচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করুন।


প্রশ্ন ২: কখন ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো উচিত?

উত্তর: বর্ষার মৌসুমে তীব্র জ্বর, চোখের পেছনে ব্যথা বা শরীরে র‍্যাশ দেখা দিলে প্রথম ১-২ দিনের মধ্যেই NS1 টেস্ট বা ডাক্তার দেখিয়ে পরীক্ষা করানো উচিত।

আরও সংবাদ
দেখানো হচ্ছে ১ থেকে ১২ পর্যন্ত ফলাফল
  • ১
  • ...
  • ১০৩

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *

২০২৪-২০২৬ নিউজ টাইম- সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Creating Document, Do not close this window...