1ef41a04-0e40-44ac-8c99-5303a719e024.webp
নিউজ টাইম
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ০৩:৫৩

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে (১৩) দামী আইফোন (iPhone) ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল।

এ ঘটনায় আইফোন উদ্ধারসহ মূল পরিকল্পনাকারী সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এ চাঞ্চল্যকর তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।


আরও পড়ুন: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের নিখোঁজ সন্তানের মরদেহ উদ্ধার, মাথায় আঘাতের চিহ্ন


সখ্যতার সুযোগে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড

তদন্তে জানা গেছে, নিহত অপ্রতিমের সাথে গ্রেপ্তারকৃতদের পূর্বে পরিচয় ও সখ্যতা ছিল। তারা একসঙ্গে চলাফেরা করত। সেই পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে অপ্রতিমকে কৌশলে বাসা থেকে বের করে আনা হয়।


পুলিশ সুপার জানান, সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে মূল অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম তুহিনকে (১৯) গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে পূর্বেও মোটরসাইকেল চুরিসহ একাধিক অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। তুহিনই অপ্রতিমকে মেসেজ পাঠিয়ে বাইরে ডেকে নিয়ে যায় এবং সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যায়।


যেভাবে সংঘটিত হয় হত্যা ও ফোন ছিনতাই

জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে আসামিরা জানায়, নির্জন জঙ্গলে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে অপ্রতিম প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়।


ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে প্রথমে তুহিন এবং পরবর্তীতে ফাহাদ ও কামরুল শক্ত বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় পর পর আঘাত করে যার ফলে মাথায় গুরুতর আঘাতের পর অপ্রতিম মাটিতে লুটিয়ে পড়লে এবং মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর আসামিরা মোবাইলটি নিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে।


সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অপ্রতিমের ব্যবহৃত ছিনতাই হওয়া আইফোনটি গ্রেপ্তারকৃত তুহিনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।


গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের পরিচয়

পুলিশের অভিযান ও তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার চারজন হলো:


১. সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯) – সানন্দা গ্রাম (মূল পরিকল্পনাকারী) ২. মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৬) – সালমানপুর ৩. মো. সিয়াম (১৫) – সুধন্যপুর ৪. কামরুল হাসান (১৫) – কুমিল্লা সদর উপজেলা


পুলিশি তদন্ত ও এলাকার পরিস্থিতি

পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, এ ঘটনার পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো একটি ফেসবুক পোস্টও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। গ্রেপ্তার চারজন ছাড়াও এ হত্যাকাণ্ডে অন্য কারও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ইন্ধন কিংবা সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


এদিকে, মাত্র ১৩ বছর বয়সী কিশোরকে একটি মোবাইল ফোনের জন্য পরিচিতদের হাতে এভাবে নৃশংসভাবে খুন হওয়ার ঘটনায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও সুধী সমাজের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আরও সংবাদ
দেখানো হচ্ছে ১ থেকে ১২ পর্যন্ত ফলাফল
  • ১
  • ...
  • ১০৩

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *

২০২৪-২০২৬ নিউজ টাইম- সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Creating Document, Do not close this window...