৪৪৩ কোটি টাকার ঋণের বোঝা ও ২৩৯ কোটি টাকার পুঞ্জীভূত লোকসানে অস্তিত্ব সংকটে ন্যাশনাল টি কোম্পানির ১২টি চা বাগান। চরম অনিশ্চয়তায় ১০ হাজার শ্রমিক।
দেশের ঐতিহ্যবাহী চা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল টি কোম্পানি (এনটিসি) এখন চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। টানা লোকসান, ঋণের বোঝা এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে হবিগঞ্জ ও সিলেট অঞ্চলের জগদীশপুর, তেলিয়াপাড়া, চন্ডিছড়া ও লাক্কাতুরাসহ ১২টি চা বাগানের প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর জীবন-জীবিকা এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে।
নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান আর্টিজান চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে ধারাবাহিকভাবে লোকসানে রয়েছে কোম্পানিটি। ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এনটিসির পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৩৯ কোটি ৯ লাখ টাকা। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘ ও স্বল্পমেয়াদি ঋণের মোট বোঝা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪৩ কোটি ২৮ লাখ টাকায়। বর্তমানে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (NAVPS) ঋণাত্মক ১৪৪ দশমিক ৯৭ টাকা, যা চরম আর্থিক ধসের ইঙ্গিত দেয়।
বাগান সংশ্লিষ্টরা জানান, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির পাশাপাশি বিদ্যুৎ, জ্বালানি, সার ও কীটনাশকের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। কিন্তু উৎপাদন ব্যয়ের সাথে পাল্লা দিয়ে নিলাম কেন্দ্রে চায়ের বাজারমূল্য বাড়েনি। এছাড়া উৎপাদিত চায়ের ২৫ শতাংশ নিজস্ব ব্র্যান্ডে প্যাকেটজাত করা হলেও বিপণন বিভাগের অদূরদর্শিতা, আন্তরিকতার অভাব ও আধুনিক কৌশলের ঘাটতিতে বিক্রি বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। তার ওপর চলতি বছর অতিবৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উৎপাদনও আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।
এই ১২টি বাগানের ওপর স্থানীয় অর্থনীতি অনেকাংশে নির্ভরশীল। বিশ্লেষকদের মতে, ঋণ পুনঃতফসিল, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও সরকারের পক্ষ থেকে সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা দেওয়া হলে এই শিল্প ঘুরে দাঁড়াতে পারে। এনটিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াউল হাসান অবশ্য আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে লোকসান কমিয়ে বাগানগুলোকে আবারও সোনালি সময়ে ফিরিয়ে নেওয়ার নিরলস চেষ্টা চলছে।
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...