হাসিনা রেজিমে একাদশ সংসদ নির্বাচন
নিউজ টাইম
১৬ জানুয়ারী, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৩

হাসিনা রেজিমে একাদশ সংসদ নির্বাচন
হাসিনা রেজিমে একাদশ সংসদ নির্বাচন

২০১৮ সালের একাদশ নির্বাচনে ভোট ডাকাতির প্রথম ধাপ ছিল ‘মিথ্যা মামলার প্রকল্প’। আছাদুজ্জামান মিয়ার নেতৃত্বে যেভাবে মাদক মামলাকে রাজনৈতিক অস্ত্র বানিয়ে বিরোধীশূন্য করা হয়েছিল নির্বাচনী মাঠ।

২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল পূর্বনির্ধারিত ফলাফল বাস্তবায়নের এক আনুষ্ঠানিক আয়োজন। ব্যালট বাক্সে সিল মারার অনেক আগেই ভোটের ফল নির্ধারণের যে ভয়ংকর ছক কষা হয়েছিল, তা ‘মিথ্যা মামলার প্রকল্প’ নামে পরিচিত। এই প্রকল্পের একমাত্র লক্ষ্য ছিল বিরোধী পক্ষকে মাঠছাড়া করে নির্বাচনকে একতরফা করে তোলা। সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এই রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্রের রোমহর্ষক সব তথ্য।


বৈঠক ও মূল পরিকল্পনাকারী:

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এই প্রকল্পের প্রধান রূপকার ছিলেন তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে এক গোপন বৈঠকে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে কোনো বিএনপি কর্মী বা বিরোধী দলের লোক নির্বাচনের মাঠে থাকতে না পারে। এরপরই পুলিশ সদর দপ্তরের প্রভাবশালী কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান আল-মামুনসহ সব ইউনিট প্রধানদের নিয়ে গোপন বৈঠক করেন আছাদুজ্জামান মিয়া। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, দেশের সব চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) ও চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের আগাম ‘ম্যানেজ’ করা হবে যাতে ধরপাকড়ে আইনি বাধা না আসে।


মাদক আইনকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার:

ওই বৈঠকে আছাদুজ্জামান মিয়া নির্দেশ দেন, গ্রেপ্তারকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের মামলায় স্থানীয় প্রভাবশালী বিএনপি নেতাকর্মীদের নাম জড়িয়ে দিতে হবে। বিশেষ করে যারা নির্বাচনের দিন কেন্দ্রে ‘পোলিং এজেন্ট’ হিসেবে কাজ করতে পারেন, তাদেরই টার্গেট করা হয়। এফআইআরে কৌশলী ভাষা ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয় যাতে দেখানো যায় যে, মাদক কারবারিরা ওই বিএনপি নেতার হয়েই কাজ করছে। অনেক পুলিশ কর্মকর্তা এই প্রক্রিয়ায় পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করলেও তা কানে তোলা হয়নি।


নির্বাচনে প্রভাব ও ফলাফল:

এই প্রকল্পের মাধ্যমে নির্বাচনের আগেই হাজার হাজার নেতাকর্মীকে এলাকা ছাড়া করা হয়। অনেকে গ্রেপ্তার হন, বাকিরা আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হন। ফলে ভোটের দিন অধিকাংশ কেন্দ্রে এজেন্ট দিতে ব্যর্থ হয় বিএনপি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সরাসরি ভোটডাকাতির কাজে ব্যবহার করা হয় এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে নির্বাসনে পাঠিয়ে একতরফা ফলাফল নিশ্চিত করা হয়।


পুরস্কার ও পরবর্তী পদায়ন:

পরিকল্পিত এই দমনের পুরস্কার হিসেবে আছাদুজ্জামান মিয়াকে অবসরের পর ২০১৯ সালে 'জাতীয় নিরাপত্তা সেলের' প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তিন বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই পদে থেকেও তিনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষের ওপর নিপীড়ন চালিয়েছেন। বর্তমানে এই পুরো প্রকল্পটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

আরও সংবাদ
দেখানো হচ্ছে ১ থেকে ১২ পর্যন্ত ফলাফল
  • ...
  • ৬৯

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *

logo

প্রকাশক :

কাউসার আহমেদ অপু
যোগাযোগ করুন

অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯

ই-মেইল : info@newstime.net

আমাদের অনুসরণ করুন
২০২৪-২০২৬ নিউজ টাইম- সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Creating Document, Do not close this window...