শহুরে জীবনে মধ্যবিত্তের বড় সংকট বাড়ি ভাড়া। আয়ের অর্ধেকই চলে যাচ্ছে ভাড়ায়। ভাড়া নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি কেন জরুরি, জানুন ডা. মাহতাব হোসাইন মাজেদের কলামে।
শহরে বাস করা এখন কেবল স্বপ্ন নয়, বরং প্রতিদিনের এক কঠিন সংগ্রামের নাম। এই সংগ্রামের সবচেয়ে বড় ও নীরব প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে লাগামহীন বাড়ি ভাড়া। আয় বাড়ার গতি মন্থর হলেও বাড়ি ভাড়া বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে, যা মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনকে এক চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
আয়ের বড় অংশই যাচ্ছে ভাড়ায়: একসময় বাড়ি ভাড়া ছিল আয়ের একটি সহনীয় অংশ, কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ মানুষের আয়ের অর্ধেক বা তারও বেশি চলে যাচ্ছে মাথার ওপর ছাদের সংস্থান করতে। শিক্ষক, ছোট ব্যবসায়ী কিংবা অবসরপ্রাপ্ত মানুষ—সবার জন্যই মাসের শুরু মানেই এক চরম অস্থিরতা ও মানসিক চাপ।
মালিক বনাম ভাড়াটিয়া: নির্মাণসামগ্রীর চড়া দাম, উচ্চ কর এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচের দোহাই দিয়ে বাড়িওয়ালারা ভাড়া বাড়ালেও এর পুরো ভার বইতে হচ্ছে ভাড়াটিয়াদের। কার্যকর নীতিমালা বা নজরদারি না থাকায় অনেক সময় চুক্তিপত্র থাকলেও তা মানা হয় না। "পছন্দ না হলে চলে যান"—মালিকদের এমন কঠোর অবস্থান ভাড়াটিয়াদের আরও অসহায় করে তোলে।
সামাজিক প্রভাব: এই সংকটের ফলে শহর ধীরে ধীরে শুধু উচ্চবিত্তদের এলাকায় পরিণত হচ্ছে। খরচ বাঁচাতে মানুষ শহর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, যার ফলে বাড়ছে যাতায়াত ব্যয় ও সময়। এটি পারিবারিক স্বস্তি ও সামাজিক বন্ধনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
উত্তরণের পথ: বাস্তবসম্মত সমাধান চাইলে সরকারিভাবে একটি শক্তিশালী ভাড়া নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা কার্যকর করা জরুরি। নির্দিষ্ট সময়ের আগে ভাড়া না বাড়ানো এবং মালিক-ভাড়াটিয়া স্বচ্ছ চুক্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি মালিকদেরও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করতে হবে। কারণ ভাড়াটিয়ারা কেবল আয়ের উৎস নয়, তারাও এই সমাজের অংশ।
বাড়ি ভাড়া বাড়ার এই সংকট আমাদের শহুরে জীবনের এক রূঢ় আয়না। এখানে ভারসাম্য না এলে শহর থাকবে ঠিকই, কিন্তু মানুষের মনে শান্তি থাকবে না।
লেখক:
ডা. মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ
প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটি
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...