নিউজ টাইম
৩ জানুয়ারী, ২০২৬ দুপুর ০১:০৫

শেখ হাসিনা।ছবি: সংগৃহীত
শেখ হাসিনা।ছবি: সংগৃহীত

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনা নিয়ে চরম সংশয়। বন্দি বিনিময় চুক্তির আইনি মারপ্যাঁচ এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েনে নির্বাচনের আগে রায় কার্যকর হওয়া প্রায় অনিশ্চিত

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যার দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। গত ১৭ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের মৃত্যুদণ্ডের রায় দিলেও তাঁরা ভারতে অবস্থান করায় রায় কার্যকর নিয়ে শহীদ পরিবারগুলোর মধ্যে তৈরি হয়েছে গভীর সংশয়।


শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে দিল্লিকে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হয়েছে। সর্বশেষ ২১ নভেম্বর দিল্লি মিশন থেকে চিঠি পাঠানো হলেও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এখনও কোনো সদুত্তর মেলেনি। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন, প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া শুরু হলেও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।


ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত ‘বন্দি বিনিময় চুক্তি’ অনুযায়ী হত্যা বা অপহরণের মতো অপরাধে অভিযুক্তদের ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও ৬ ও ৮ নম্বর অনুচ্ছেদে কিছু ফাঁক রয়ে গেছে।


রাজনৈতিক অপরাধ: কোনো অপরাধকে ‘রাজনৈতিক’ হিসেবে বিবেচনা করলে ভারত প্রত্যর্পণের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করতে পারে।

মানবাধিকার ও মৃত্যুদণ্ড: আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাতিসংঘ বা ভারত মৃত্যুদণ্ড সমর্থন করে না এমন ক্ষেত্রে আসামিকে ফেরত পাঠাতে নিরুৎসাহিত হতে পারে। ব্যারিস্টার রাশনা ইমামের মতে, মৃত্যুদণ্ডের সাজা হাসিনাকে ফেরানোর পথে বড় আইনি বাধা হতে পারে।


হাসিনাকে গ্রেপ্তারে ইতোমধ্যে দুই দফা ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ১০ নভেম্বর পুলিশ সদর দপ্তরের মাধ্যমে ইন্টারপোলের কাছে আবেদন করেছে ট্রাইব্যুনাল। তবে সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদ মনে করেন, রাজনৈতিক নেতাকে আশ্রয় দেওয়ার পর ফিরিয়ে দেওয়ার নজির খুবই কম এবং বর্তমান সম্পর্কের টানাপোড়েনে এটি আরও কঠিন।


বর্তমানে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ৫৮৩টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ৩২৪টিই হত্যা মামলা। এছাড়াও দুর্নীতির মামলায় ২১ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে তাঁর। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার কূটনৈতিক বা প্রশাসনিক পরিবেশ অনুকূলে নেই।


ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, এটি পুরোপুরি দুই দেশের ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কের ওপর নির্ভর করছে। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হলেই কেবল এই প্রক্রিয়া গতি পেতে পারে। ফলে আপাতত রায় কার্যকর হওয়ার বিষয়টি সুদূরপরাহত।

আরও সংবাদ
দেখানো হচ্ছে ১ থেকে ১২ পর্যন্ত ফলাফল
  • ...
  • ৬৯

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *

logo

প্রকাশক :

কাউসার আহমেদ অপু
যোগাযোগ করুন

অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯

ই-মেইল : info@newstime.net

আমাদের অনুসরণ করুন
২০২৪-২০২৬ নিউজ টাইম- সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Creating Document, Do not close this window...