ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ইতিহাস ও বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ। শাহ আমল থেকে সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ পর্যন্ত ইরানের সামরিক বিবর্তন জানুন।
ইরান বর্তমানে বিশ্ব রাজনীতির এক অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্রধারী না হলেও প্রযুক্তি, জ্ঞান এবং উপকরণের দিক থেকে একে একটি ‘নিউক্লিয়ার থ্রেশহোল্ড স্টেট’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণা, নিষেধাজ্ঞা এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরানের এই যাত্রার ইতিহাস অত্যন্ত জটিল।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির শুরু হয়েছিল ১৯৭০-এর দশকে শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভীর শাসনামলে, তৎকালীন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সরাসরি সহায়তায়।
১৯৬৭: তেহরানে প্রথম গবেষণা চুল্লি স্থাপন।
১৯৭৯: ইসলামী বিপ্লব এবং পরবর্তী ইরান-ইরাক যুদ্ধের কারণে কর্মসূচি থমকে যায়।
১৯৯০-এর দশক: রাশিয়া, চীন ও পাকিস্তানের সহায়তায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রযুক্তি পুনরায় সচল করে ইরান।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ অনুযায়ী, ইরান ‘আমাদ পরিকল্পনা’ নামক গোপন প্রকল্পের মাধ্যমে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালিয়ে আসছিল, যার নেতৃত্বে ছিলেন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির জনক মোহসেন ফাখরিজাদেহ।
২০০২: নাতাঞ্জ ও আরাকের গোপন স্থাপনা ফাঁস হওয়ার পর আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শোরগোল পড়ে।
২০১৫: ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তি (JCPOA) স্বাক্ষরিত হয়।
২০১৮: ট্রাম্প প্রশাসন এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেলে ইরান পুনরায় উচ্চমাত্রায় (৬০% পর্যন্ত) ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করে।
মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনী
ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে ইরান বর্তমানে অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ১৯৮০-৮৮ সালের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে তারা গড়ে তুলেছে বিশাল এক অস্ত্রভাণ্ডার।
ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র: সেজ্জিল, খোররামশাহর এবং শাহাব-৩ (যা ২০০০ কিমি পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম)।
ড্রোন প্রযুক্তি: বর্তমান বিশ্বে আলোচিত 'শাহেদ' সিরিজের ড্রোন।
আকাশ প্রতিরক্ষা: দেশীয় প্রযুক্তির বাভার-৩৭৩ এবং রাশিয়ার এস-৩০০ ব্যবস্থা।
অস্ত্রের সংখ্যা: বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের হাতে ২,৫০০ থেকে ৬,০০০ পর্যন্ত ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ বাহিনীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘাত শুরু হয়।
হামলার প্রভাব: যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী ইরানের অনেক গবেষণা কেন্দ্র ধ্বংস করা হয়েছে। এই যুদ্ধে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিসহ প্রায় ১৫০০ নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
পাল্টা জবাব: ইরানও তাদের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর মতে, ইরান এখন বিপুল পরিমাণ উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ করেছে, যা যেকোনো সময় কৌশলগত সমীকরণ বদলে দিতে পারে।
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...