কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানখেতের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন (১৩) হত্যা মামলার চাঞ্চল্যকর রহস্য উদঘাটন করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, ধর্ষণের চেষ্টায় বাধা দেওয়ায় ঘাতক সিএনজিচালক সুমন মিয়া (৩৫) গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছিলেন এই কিশোরীকে। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, গত বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর রেসকোর্স এলাকায় যাওয়ার জন্য সুমনের সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি ভাড়া করে তাজমিন। কিন্তু গন্তব্যে না নিয়ে চালক সুমন ভিন্ন উদ্দেশ্যে তাকে বিজরার দিকে নিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় বিভিন্ন অলিগলি ঘুরিয়ে তাকে লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার একটি নির্জন সড়কে তোলা হয়। সেখানে কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালালে তাজমিন তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং উভয়ের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়।
একপর্যায়ে অটোরিকশাটি সড়কের পাশের ধানখেতে কাত হয়ে পড়ে যায়। কিশোরী দৌড়ে বাঁচার চেষ্টা করলেও শারীরিক দুর্বলতার কারণে কাবু হয়ে পড়ে। পরে সুমন তাকে ধর্ষণের পর নিজের গামছা গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা নিশ্চিত করে। হত্যাকাণ্ড শেষে পাশের পুকুরে গোসল করে সে। এরপর নিহতের ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে একটি আইফোন হাতিয়ে নিয়ে তা ধানখেতে লুকিয়ে রেখে অটোরিকশা ফেলে রেখেই চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে পালিয়ে যায়।
নিহত তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামের রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কর্মকর্তা আব্দুল আলিমের মেয়ে। পরিবারের সঙ্গে সে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকত এবং স্থানীয় ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিল সে।
গত বুধবার রাত ১২টা ১৯ মিনিটে তাকে শেষবারের মতো হোটেল নূরজাহানের সামনে দেখা যায়। পরবর্তীতে রাত ২টা ৫৮ মিনিটে সে তার বাবার হোয়াটসঅ্যাপে নিজের ‘লাইভ লোকেশন’ পাঠিয়ে তাকে উদ্ধারের অনুরোধ জানায়। তবে গভীর রাতে বাবা ঘুমিয়ে থাকায় বার্তাটি সময়মতো দেখতে পাননি। পরদিন সকালে অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের পর স্বজনরা তার পরিচয় শনাক্ত করেন।
ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া অটোরিকশার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ধরে ছায়া তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডিবি ও লালমাই থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রাম থেকে প্রধান অভিযুক্ত সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে।
সুমনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাগমারা এলাকার পুকুরপাড়ের জঙ্গল থেকে নিহত তাজমিনের আইফোন এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়। ঘাতকের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...