টেকনাফ সীমান্তে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে আহত শিশু হুজাইফা সুলতানা আফনান ২৭ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
টানা ২৭ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে হার মানল ৯ বছরের শিশু হুজাইফা সুলতানা আফনান। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টায় ঢাকার জাতীয় নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। গত ১৩ জানুয়ারি টেকনাফ সীমান্তে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে সে গুরুতর আহত হয়েছিল।
নিহত হুজাইফা টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল গ্রামের জসীম উদ্দিনের মেয়ে এবং লম্বাবিল হাজী মোহাম্মদ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৩ জানুয়ারি তেচ্ছা ব্রিজ এলাকায় অবস্থানকালে মিয়ানমারের অভ্যন্তর থেকে আসা একটি গুলি তার শরীরে বিঁধে যায়।
হুজাইফার চাচা সওকত জানান, ঘটনার পর তাকে প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে দীর্ঘ চেষ্টা সত্ত্বেও তার শরীর থেকে গুলিটি বের করা সম্ভব হয়নি। একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে মা সুমাইয়া আক্তার এখন বাকরুদ্ধ। মেয়ের স্কুলের বই বুকে জড়িয়ে তাঁর গুমরে কাঁদা আর বিলাপ দেখে উপস্থিত প্রতিবেশী ও স্বজনদের চোখের পানি ধরে রাখা দায় হয়ে পড়েছে।
হুজাইফার চাচা শাখাওয়াত অভিযোগ করে বলেন, "সরকার যদি আরও গুরুত্ব দিয়ে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করত, তবে হয়তো মেয়েটি বেঁচে থাকত। আমরা আল্লাহর কাছে বিচার চাই।"
একটি নিষ্পাপ স্কুলছাত্রীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যু সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের জেরে বারবার বাংলাদেশি ভূখণ্ডে গুলি ও গোলাবারুদ আসার ঘটনা ঘটলেও হুজাইফার মৃত্যু সেই সংকটকে আরও ঘনীভূত করল।
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...