নির্বাচনের ঠিক আগে ইসি-র নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ৫০০ কোটি টাকার ভিডব্লিউবি প্রকল্প অনুমোদন! ২৪৮টি এনজিও নির্বাচনে কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগ। অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ কর্মদিবসের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বিস্তারিত
নির্বাচনের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে, অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ কর্মদিবসে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি বড় প্রকল্প অনুমোদনকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ‘ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি)’ কার্যক্রমের আওতায় ২৪৮টি এনজিওকে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, এই অনুমোদনের আড়ালে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি এনজিওর কাছ থেকে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা করে নেওয়া হয়েছে, যার মোট পরিমাণ প্রায় ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা। তড়িঘড়ি করে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয়ের নীতিমালার স্বচ্ছতাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বরে নির্বাচন কমিশন এক চিঠিতে স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, নির্বাচন সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত নতুন কোনো ভিডব্লিউবি বা অনুরূপ কার্যক্রম নেওয়া যাবে না।
কিন্তু সেই নির্দেশনা বহাল থাকতেই সরকারের শেষ কর্মদিবসে এই অনুমোদন দেওয়াকে ‘বিস্ময়কর’ ও ‘অস্বাভাবিক’ বলে মনে করছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। সাবেক অতিরিক্ত সচিবদের মতে, স্থগিত থাকা প্রকল্প শেষ মুহূর্তে অনুমোদন দেওয়া প্রশাসনিক বিচক্ষণতার চরম পরিপন্থী।
আইনবিদ ড. গাজী সিরাজুল ইসলাম বলেন, "নির্বাচনের সময় সরকারি অর্থে নতুন প্রকল্প ভোটের পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে। ইসি-র নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করা প্রশাসনিক জবাবদিহিতা ও আইনি দায়ের বিষয়।" অন্যদিকে, জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ড. আব্দুস সবুর এই ঘটনার দ্রুত তদন্ত দাবি করেছেন।
অতি দরিদ্র নারীদের স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম এখন এনজিও নির্বাচনের অনিয়ম আর ঘুষের অভিযোগে জর্জরিত। প্রশ্ন উঠেছে, এই ২৪৮টি এনজিওর বাছাই প্রক্রিয়া কতটা নিরপেক্ষ ছিল এবং প্রকৃত উপকারভোগীরা শেষ পর্যন্ত সেবা পাবেন কি না।
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...