1ef41a04-0e40-44ac-8c99-5303a719e024.webp
নিউজ টাইম
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ০৪:৪৫

পটুয়াখালী জেলা মডেল মসজিদের দৃশ্য যেখানে ইমামের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার বাদী গ্রেপ্তার হয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
পটুয়াখালী জেলা মডেল মসজিদের দৃশ্য যেখানে ইমামের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার বাদী গ্রেপ্তার হয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালী জেলা মডেল মসজিদের পেশ ইমামের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক ও সম্পূর্ণ মিথ্যা ধর্ষণচেষ্টার মামলা দায়ের করে উল্টো নিজেই ফেঁসে গেছেন জাহানারা বেগম নামে এক নারী।

আদালতের নির্দেশে পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশ সোমবার তাঁকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।


ঘটনার সূত্রপাত: নাতিদের চুরি ও প্রতিশোধের মনস্তত্ত্ব

স্থানীয়রা জানান, পটুয়াখালী শহরের কলাতলা এলাকার বাসিন্দা জাহানারা বেগম দীর্ঘদিন ধরে তাঁর দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক নাতিকে দিয়ে পটুয়াখালী জেলা মডেল মসজিদসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে চুরি ও অপকর্ম করিয়ে আসছিলেন।


গত ১২ নভেম্বর তাঁর দুই নাতি মডেল মসজিদে চুরি করতে ঢুকে খাদেম সাব্বির ও আলহাজ্ব শাহ আলম (৭০) নামের এক মুসল্লির হাতে ধরা পড়ে। পরবর্তীতে এশার নামাজের পর বিষয়টি পেশ ইমাম মাওলানা মো. তানভিরুল ইসলামকে জানানো হলে তিনি প্রশাসনকে অবহিত করেন। পুলিশ এসে ওই দুই কিশোরকে আটক করলেও বয়স কম হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়।


এই ঘটনার জের ধরে মসজিদ কর্তৃপক্ষের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে পেশ ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা অভিযোগ সাজান জাহানারা বেগম। চুরির ঘটনার ১৫ দিন পর ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ইমামের বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টার মামলা ঠুকে দেন।


আরও পড়ুন: ন্যাম ভবনে সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুলের স্ত্রীর লাশ উদ্ধার


পিবিআই তদন্তে সত্য উন্মোচন

আদালতের নির্দেশে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঘটনার তদন্ত শুরু করে।


  1. সিসিটিভি ফুটেজ ও সাক্ষ্য: পিবিআই সিসিটিভি ফুটেজ, নিরপেক্ষ সাক্ষীদের জবানবন্দি ও হাসপাতালের চিকিৎসকের রিপোর্ট পর্যালোচনা করে ধর্ষণচেষ্টার কোনো সত্যতা পায়নি।
  2. চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট): গত ২৯ জুন পিবিআই আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানায়, অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও প্রতিশোধমূলক।


আইনি পদক্ষেপ ও গ্রেপ্তার

গত ২৮ জুলাই ট্রাইব্যুনাল পিবিআইয়ের রিপোর্ট পর্যালোচনা শেষে মামলাটি খারিজ করে দেন। একই সাথে মিথ্যা মামলা দায়ের করে আদালতকে বিভ্রান্ত করার অপরাধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭ ধারায় বাদী জাহানারার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার নির্দেশ দেন।


আদালতের আদেশের পর বিবাদীপক্ষ জাহানারার বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়ের করলে তাঁর বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করা হয়। পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ওই ওয়ারেন্টের ভিত্তিতেই আসামিকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। পরে বিচারক তাঁকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

আরও সংবাদ
দেখানো হচ্ছে ১ থেকে ১২ পর্যন্ত ফলাফল
  • ১
  • ...
  • ১০৩

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *

২০২৪-২০২৬ নিউজ টাইম- সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Creating Document, Do not close this window...