1ef41a04-0e40-44ac-8c99-5303a719e024.webp
নিউজ টাইম
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ০৩:৪৭

13d177d5-dd2f-491e-aa2e-e3f7cf7617fb_1200x730.webp

ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী বাসের ছবি নিয়ে করা একটি পোস্টে স্নাইপার-সংক্রান্ত মন্তব্যের ঘটনায় মো. আবু বকর সিদ্দিক (২২) নামে এক যুবকের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক এ আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের উপপরিদর্শক মো. ইয়াছিন পাইক আসামিকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

শুনানিতে যা বললেন আসামি

রিমান্ড শুনানির জন্য আবু বকর সিদ্দিককে পুলিশি পাহারায় আদালতে হাজির করা হয়। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

বিচারক আসামির কাছে তাঁর কিছু বলার আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কমেন্টটি মজা করে করছি, কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।’ পরে আদালত তাঁর সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড আবেদনে যেসব বিষয় উল্লেখ

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং এজাহারে উল্লেখ করা অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে আসামিকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।আবেদনে আরও দাবি করা হয়, আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকার করেছেন। তবে এ বক্তব্যের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার চক্রান্তে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, কোনো সুসংগঠিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, স্নাইপার বা অস্ত্র সরবরাহকারী চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয়তার কথা রিমান্ড আবেদনে তুলে ধরা হয়।আসামি কোনো সুসংগঠিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, চক্র বা নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য কি না এবং ঘটনার পেছনে কোনো চক্র বা মূল পরিকল্পনাকারী রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি জব্দ করা মোবাইল ফোনের বাইরেও অন্য কোনো ডিজিটাল আলামত রয়েছে কি না, তা শনাক্ত ও উদ্ধারের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়।

যেভাবে গ্রেপ্তার হন আবু বকর

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২১ অক্টোবর ফেসবুকের ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের একটি গ্রুপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী একটি বাসের তিনটি ছবি পোস্ট করা হয়। পোস্টের ক্যাপশনে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর জন্য লাল-সবুজ রঙের বুলেটপ্রুফ বাসের পরিবর্তে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) বাস ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।

ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে ‘এমডি আবু বকর সিদ্দিক’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে লেখা হয়, ‘ইস একটা বড় সুযোগ ছিল, শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’।

পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আইডিটির ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করে রাজশাহী মহানগরীর পবা থানার ঘোলহাড়িয়া দক্ষিণপাড়া এলাকা থেকে আবু বকর সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর বাবা মো. আয়নাল হককেও আটক করা হয়েছিল। তবে প্রাথমিক তদন্তে তাঁর বাবার সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গ্রেপ্তারের পর আবু বকর সিদ্দিকের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। রিমান্ড আবেদনে দাবি করা হয়েছে, ফোনটি পর্যালোচনা করে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে আপত্তিকর মন্তব্যের তথ্য পাওয়া গেছে।

সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা

এ ঘটনায় ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের উপপরিদর্শক মো. মানিক হোসেন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি করেন।

এর আগে গত ২৩ অক্টোবর আদালত আবু বকর সিদ্দিককে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। রোববার শুনানি শেষে তাঁর সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

আরও সংবাদ
দেখানো হচ্ছে ১ থেকে ১২ পর্যন্ত ফলাফল
  • ১
  • ...
  • ১০৪

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *

২০২৪-২০২৬ নিউজ টাইম- সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Creating Document, Do not close this window...