মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে স্পষ্ট বলা আছে—কোনো ব্যক্তি জীবনে দুইবারের বেশি দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারবেন না। তবে সেই সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আবারও তৃতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসের মসনদে বসার অধিকার তাঁর রয়েছে বলে নতুন করে দাবি তুলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আইওয়ার সিউক্স সিটিতে আয়োজিত এক বিশাল রাজনৈতিক সমাবেশে উপস্থিত সমর্থকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। ভাষণ প্রদানকালে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, দেশটির আইন অনুযায়ী তাঁর আবারও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আইনি অনুমতি নেই। কিন্তু ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা জালিয়াতি করে তাঁর কাছ থেকে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল।
এই পুরোনো দাবি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন: "তারা আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। কারণ, প্রকৃতপক্ষে আমরা তিনবারই জিতেছিলাম। তাই আমার মনে হয়, আবারও নির্বাচনে লড়ার পূর্ণ অধিকার আমার রয়েছে।"
কথাটি বলার সময় ট্রাম্প মুখে মৃদু হাসি বজায় রাখলেও পুরো মিলনায়তনে উপস্থিত বিপুলসংখ্যক সমর্থক করতালি দিয়ে তাঁকে অভিবাদন জানান। ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগেও বহুবার ইঙ্গিতপূর্ণ বা রসিকতার ছলে তৃতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে থাকার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, তৃতীয় মেয়াদের নির্বাচনে অংশ নিতে তিনি অত্যন্ত আগ্রহী।
এর আগে একই বছরের ফেব্রুয়ারিতে টেক্সাসের এক জনসভায় তিনি বলেছিলেন, "হয়তো আমাদের আরও একটি মেয়াদ থাকা উচিত।" সে সময় এই অতিরিক্ত মেয়াদকে নিজের ‘প্রাপ্য পাওনা’ বলেও আখ্যা দেন তিনি। শুধু মুখের কথায় সীমাবদ্ধ থাকেনি বিষয়টিকে কেন্দ্র করে তৈরি প্রচারণা। ট্রাম্পের মালিকানাধীন অফিসিয়াল স্টোরে আগেই ‘ট্রাম্প ২০২৮’ (Trump 2028) লেখা ক্যাজুয়াল টুপি বিক্রি শুরু হয়। এমনকি চলতি বছরের জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত বিখ্যাত হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারে এমন একটি টুপি পরে জনসম্মুখে উপস্থিত হতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ধরনের মন্তব্যে মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও ব্যাপক বিতর্ক ও আলোড়ন তৈরি হয়েছে। তবে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা এটিকে নিছক একধরনের রাজনৈতিক চাতুর্য ও কৌতুক হিসেবেই দেখার পক্ষপাতী। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন এ বিষয়ে মন্তব্য করেছিলেন যে, ট্রাম্প মূলত এই ধরনের বক্তব্য দিয়ে প্রতিপক্ষ ডেমোক্র্যাট শিবিরকে খোঁচা দিতে এবং আনন্দ পেতে পছন্দ করেন। জনসন আরও স্পষ্ট করে দেন, মার্কিন সংবিধান সংশোধন করে ট্রাম্পের পুনরায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কোনো বাস্তবসম্মত পথ খোলা নেই।
অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট ও ট্রাম্পের বিরোধীদের একটি বড় অংশ আশঙ্কা করছে যে, ট্রাম্প বিষয়টি নিয়ে হয়তো সত্যিই গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করছেন। যদিও ট্রাম্প নিজেই সংবিধানের কড়াকড়ির কথা স্বীকার করেছেন। আইওয়ার সমাবেশে তিনি অকপটে বলেন, সংবিধানের ২২তম সংশোধনের এই বিধানটি অত্যন্ত স্পষ্ট এবং সেখানে ছাড় দেওয়ার বা ব্যতিক্রম ঘটার সম্ভাবনা খুবই কম।
সামনেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন। সেই নির্বাচনকে সামনে রেখে ট্রাম্প সমর্থকদের এমনভাবে ভোট প্রদান করার আহ্বান জানাচ্ছেন, যেন ব্যালট পেপারে তাঁর নামই রয়েছে। এর মাধ্যমে রিপাবলিকান দলকে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে আরও বেশি আসন জেতাতে চান তিনি। তবে সাম্প্রতিক জনমত জরিপে ট্রাম্পের নিজস্ব রেটিংয়ে নতুন করে পতন দেখা গেছে, যার ফলে মধ্যবর্তী নির্বাচনে এই কৌশল কতটা সফল হবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র মতামত রয়েছে।
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...