ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে পুনরায় শুরু হয়েছে সরকারের বিতর্কিত ও ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান। রাজ্যটির তিনটি জেলা জুড়ে টানা দুই দিনের অভিযানে ১,১০০-র বেশি পরিবারকে তাদের ভিটামাটি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হয়েছে শত শত ঘরবাড়ি। বাস্তুচ্যুতদের একটি বিশাল অংশই মূলত বাঙালি মুসলিম সম্প্রদায়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘স্ক্রল’-এর বরাত দিয়ে আসামের ঊর্ধ্বতন বন কর্মকর্তারা জানান, অভিযানের দ্বিতীয় দিনে গত রবিবার (১৮ অক্টোবর) আসামের নগাঁও জেলার লুতুমারি লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে ৬০০-র বেশি মুসলিম পরিবারের ঘরবাড়ি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
এর আগের দিন শনিবার নগাঁও, গোলাঘাট ও হোজাই—এই তিন জেলা থেকে কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে আরও ৫৪৭টি পরিবারকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে নগাঁওয়ে ৩৩৬টি, হোজাইয়ে ১৫২টি এবং গোলাঘাটে ৫৯টি পরিবার রয়েছে। দুই দিনের পরিসংখ্যান মেলালে বাস্তুচ্যুত পরিবারের সংখ্যা দাঁড়ায় ১,১০০-রও বেশি।
আরও পড়ুন: আজারবাইজানের স্কুলে হিজাব নিষেধাজ্ঞা: ৯৬% মুসলিমের দেশে হঠাৎ কেন এই কড়াকড়ি?
লুতুমারি লংজাপ বনাঞ্চলের অধিবাসীরা দাবি করেছেন, তারা কোনো অবৈধ দখলদার নন। প্রায় পাঁচ দশক ধরে সংরক্ষিত এই এলাকার ৩০০ হেক্টরের বেশি জমিতে তারা বসবাস করে আসছিলেন এবং রাজ্য সরকারই অতীতে তাদের এখানে বসতি স্থাপন করার সুযোগ দিয়েছিল।
উচ্ছেদ অভিযানে ঘর হারানো ৪৪ বছর বয়সী আব্দুল নূর স্ক্রলকে জানান, ১৯৭৪ সালে তদানীন্তন সরকারই এই সম্প্রদায়টিকে এখানে পুনর্বাসিত করেছিল। কাছের জুড়িয়া শহর থেকে নদীভাঙন ও ভূমিহীন হওয়া প্রায় ৩০০টি পরিবার এখানে চার বিঘা করে জমি পেয়েছিল। পরবর্তীতে এই পরিবারগুলোর অধিকাংশ সদস্যই বন বিভাগের শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন।
আব্দুল নূর ভারাক্রান্ত কণ্ঠে বলেন— "আমরা উচ্ছেদের বিরুদ্ধে গুয়াহাটি হাইকোর্টে আইনি লড়াইয়ের জন্য আবেদন জানিয়েছিলাম, কিন্তু কোনো সুফল পাইনি। এই অভিযানের মাধ্যমে ৫০ বছরেরও বেশি পুরোনো অন্তত ১০টির মতো মসজিদ মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে।"
উচ্ছেদ অভিযানের আগে জুনে সর্বভারতীয় বনকর্মী সংঘ রাজ্য সরকারকে এই পরিকল্পিত অভিযান বন্ধের অনুরোধ জানিয়ে একটি চিঠি পাঠায়। দলটির যুক্তি ছিল, কান্দারপা লংজাপ, পদুমনি, হাতিজুর এবং ৯ নং খেরোনি—এই চার গ্রামের বাসিন্দারা ঔপনিবেশিক আমলের ঐতিহাসিক ‘টাউংয়া’ (Taungya) প্রথার অধীনে এখানে বসতি স্থাপন করেছিলেন। তাই তাদের সাধারণ জবরদখলকারী হিসেবে বিবেচনা করা অন্যায্য।
উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ব্রিটিশদের দ্বারা প্রবর্তিত এই টাউংয়া পদ্ধতির আওতায় বনবাসী সম্প্রদায়গুলোকে সরকারি বন বিভাগের হয়ে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হতো। বিনিময়ে তারা মূল্যবান গাছের মাঝখানের জমিতে ফসল ফলানোর অধিকার পেত।
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...