1ef41a04-0e40-44ac-8c99-5303a719e024.webp
নিউজ টাইম
৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ০৫:৫৬

বিশ্বের শীর্ষ খেলাপি ঋণের দেশ হিসেবে উঠে এসেছে বাংলাদেশ।
বিশ্বের শীর্ষ খেলাপি ঋণের দেশ হিসেবে উঠে এসেছে বাংলাদেশ।

ব্যাংকিং খাতে প্রতি ১০০ টাকার ৩৩ টাকাই খেলাপি! ইউক্রেনকে টপকে খেলাপির বৈশ্বিক তালিকায় শীর্ষে বাংলাদেশ। বিস্তারিত তথ্য ও বিশ্লেষণ।

ব্যাংক থেকে বিতরণ করা প্রতি ১০০ টাকা ঋণের প্রায় ৩৩ টাকাই এখন খেলাপি। আন্তর্জাতিক নানা সূচক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, খেলাপি ঋণের হারের দিক থেকে বিশ্বমঞ্চে এখন শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। ইউক্রেন তাদের খেলাপি ঋণ দ্রুত কমিয়ে আনলেও, বাংলাদেশে বিগত সময়ে আড়ালে রাখা বেনামি ও অনিয়মিত ঋণ প্রকাশ পাওয়ায় এই নজিরবিহীন চিত্র সামনে এসেছে।


বৈশ্বিক শীর্ষ ৫ খেলাপি ঋণের দেশ

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক ও বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে খেলাপি ঋণের হারে শীর্ষে থাকা দেশগুলো হলো:


১. বাংলাদেশ: ৩২.৯২% (৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা)

২. চাদ: ৩১.৫১%

৩. ইকুয়েটোরিয়াল গিনি: ৩০%

৪. আলজেরিয়া: ২০.০৫%

৫. ঘানা: ১৮.১১%


আরও পড়ুন: বাংলা কিউআর ব্যবহারে বিকাশ প্রতিনিধিদের মৌখিক নিষেধাজ্ঞা


যেভাবে আড়াল ভাঙল ৬ লাখ কোটির ঋণের

বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৬ সালের জুন প্রান্তিকের হিসাব অনুযায়ী, ব্যাংক খাতে মোট খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকায়, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৩২.৭৮ শতাংশ।


খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, এই ঋণের একটি বড় অংশ হঠাৎ করে সৃষ্টি হয়নি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনিয়মিত ও বেনামি ঋণকে পুনঃতফসিল ও বিশেষ ছাড়ের মাধ্যমে কাগজে-কলমে 'নিয়মিত' দেখানো হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নিরপেক্ষ নিরীক্ষা এবং ব্যাংকগুলোর সম্পদের মান পর্যালোচনার পরই বের হয়ে এসেছে আসল চিত্র। সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় থাকা একীভূত ৫টি ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের ৮০ শতাংশেরও বেশি এখন খেলাপি।


ইউক্রেনের ঘুরে দাঁড়ানো এবং বাংলাদেশের বিপরীত চিত্র

দীর্ঘদিন এই তালিকার শীর্ষে থাকা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইউক্রেন ২০২৪ সাল থেকে পরিকল্পিত উপায়ে খেলাপি ঋণ কমানো শুরু করে। পুরোনো খেলাপি ঋণ হিসাব থেকে অবলোপন (রাইট-অফ), কঠোর আইনি প্রক্রিয়ায় অর্থ আদায় এবং মানসম্মত নতুন ঋণ দেওয়ার মাধ্যমে দেশটি ২০২৬ সালের জুলাইয়ে খেলাপি ঋণের হার ১২.৫ শতাংশে নামিয়ে এনেছে।


অন্যদিকে বাংলাদেশে ঘটে সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র। ২০২৪ সালের জুনে আনুষ্ঠানিকভাবে খেলাপি ঋণ ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা দেখানো হলেও দুই বছরের ব্যবধানে গোপন ঋণ সামনে আসায় তা ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে বাংলাদেশকে বিশ্ব শীর্ষে নিয়ে যায়।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল নামমাত্র পুনঃতফসিল কিংবা কাগজে হিসাব পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্যাংক খাতের এই ক্ষয়রোগ সারবে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে:

ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে হবে।

দ্রুত আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে পাওনা টাকা আদায় বাড়াতে হবে।

পরিচালনা পর্ষদ ও ঋণ অনুমোদনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা জরুরি।

আরও সংবাদ
দেখানো হচ্ছে ১ থেকে ১২ পর্যন্ত ফলাফল
  • ১
  • ...
  • ১০৩

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *

২০২৪-২০২৬ নিউজ টাইম- সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Creating Document, Do not close this window...