জরুরি প্রয়োজনে কিংবা তাড়াহুড়োয় টিকিট না কেটে ট্রেনে চড়ে বসার ঘটনা প্রায়ই ঘটে। তবে বিনা টিকিটে ভ্রমণের পর সেই অপরাধবোধ থেকে স্বপ্রণোদিত হয়ে স্টেশনের কাউন্টারে ভাড়ার টাকা ও হাতে লেখা চিরকুট রেখে যাওয়ার ঘটনা সত্যিই বিরল ও অনুপ্রেরণাদায়ক।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে বগুড়া রেলওয়ে স্টেশনের টিকিট কাউন্টারে এমন এক ব্যতিক্রমী ও প্রশংসনীয় ঘটনা ঘটেছে। মাহী নামের এক যাত্রী বিনা টিকিটে ভ্রমণ করার পর অনুতপ্ত হয়ে কাউন্টারে ভাড়ার টাকা এবং একটি চিঠি রেখে যান। ঘটনাটি জানাজানি হতেই স্টেশন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সাধারণ যাত্রীদের মুখে মুখে এখন তাঁর সততার প্রশংসা।
স্টেশন সূত্রের প্রাপ্ত চিরকুটটিতে দেখা যায়, নিজের নাম উল্লেখ করে অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে সেই যাত্রী লিখেছেন—
"আমি মাহী, গত ৭/১০/২৬ তারিখে সান্তাহার যাই। যাওয়ার সময় তাড়াহুড়ার জন্য টিকিট কাটার সময় পাইনি। তবে ফিরে আসার সময় টিকিট কাটছি। তাই এই ৩০ টাকা রেখে যাচ্ছি।"
এই ঘটনা প্রসঙ্গে বগুড়া রেলওয়ে স্টেশনের সহকারী স্টেশনমাস্টার সাব্বির আহমেদ যাত্রীর এই বিবেকবোধ ও সচেতনতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, "যাত্রীদের এ ধরনের সততা ও দায়িত্বশীল আচরণ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। যদিও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে রেলস্টেশনে পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে আসা উচিত। যিনি এভাবে চিরকুট ও টাকা রেখে নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন, তিনি যদি আত্মপ্রকাশ করতেন কিংবা পরিচয় জানাতেন, তবে আমরা স্টেশন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে ধন্যবাদ জানাতে পারতাম।"
তিনি আরও যোগ করেন, "বাংলাদেশ রেলওয়ে আমাদের জাতীয় সম্পদ। এটি সবার জন্য, তাই এর যত্ন ও সঠিক নিয়ম রক্ষায় প্রতিটি নাগরিকের এভাবে সচেতনভাবে এগিয়ে আসা উচিত।" বিনা টিকিটে যাত্রীদের জরিমানা করার যুগে এমন সততা ও নৈতিকতার বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...